আদার কন্দ পচা বা রাইজম রট রোগ – Rhizome Rot of Ginger (ছত্রাকজনিত রোগ)
লক্ষণঃ
এটি একটি ক্ষতিকারক ছত্রাক রোগ।
কান্ডের উপরের অংশে এ রোগ আক্রমণ করে।
এর ফলে কন্দ পােচ যায়, গাছ হলুদ থেকে লালচে হয়ে মারা যায়।
আক্রান্ত গাছের পাতা প্রথমে হলুদ হয়ে যায় কিন্তু গাছের পাতায় কোন দাগ থাকে না। পরবর্তীতে গাছ আস্তে আস্তে নেতিয়ে পড়ে এবং শুকিয়ে মারা যায়।
আক্রান্ত গাছ টান দিলে খুব সহজেই উঠে আসে এবং গাছের গোড়ার অংশে পচা দেখা যায়।
আক্রান্ত গাছের কন্দ/রাইজম পচে যায় এবং ফলন মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়। আক্রান্ত গাছের গোড়া বা আক্রান্ত রাইজম থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হয় এবং আক্রান্ত গাচের রাইজম ফ্লাই নামক পোকার আধিক্য দেখা যায়।
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনাঃ
আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট বা পুড়ে ফেলা।
রোগ প্রতিরোধক জাত ব্যবহার করা।
রোগমুক্ত জমি থেকে আদার বীজ সংগ্রহ করা।
কাঁচা গোবর পানিতে গুলে কন্দ শোধন করে ছায়া শুকিয়ে ব্যবহার করা।
প্রতি লিটার পানিতে ৩-৪ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিড়িড়ি জাতীয় জীবানু মিশিয়ে কন্দ শোধন করা।
২ গ্রাম উপশম ৭৮ ডব্লিউপি বা ম্যানকোজেব ৩ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে আধা ঘন্টা শোধন করে ছায়ায় শুকিয়ে ব্যবহার করা।
অর্ধপচা মুরগির বিষ্ঠা ৫ টন/হেক্টর মাটিতে বীজ বপনের ২১ দিন পূর্বে প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে পচানো।
অতঃপর মাটিতে স্টেবল ব্লিচিং পাউডার ২০ কেজি/হেক্টর হারে জমির শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করা।
চারার বয়স ৪০ দিন পর থেকে প্রতি ১২-১৫ দিন অন্তর অন্তর উপশম ৭৮ ডব্লিউপি (০.২%) ৩-৪ বার প্রয়োগ করা।
ব্যাকটেরিয়া মুক্ত বীজ বাছাই+বোর্দোমিক্সারে বীজ শোধন (লাগানোর ১-২ দিন আগে) + স্ট্যাবল বিচিং পাউডার প্রয়োগ (২০ কেজি/হেক্টর) + বরিক এসিড প্রয়োগ (৭.৫ কেজি/হেক্টর) + বীজ গজানোর ৬০ দিন পর ২০ দিন পরপর জমিতে দুই বার বোর্দোমিক্সার প্রয়োগ।
রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম উপশম ৭৮ ডব্লিউপিবা ১% বর্দোমিকচার মিশিয়ে গাছের গোড়ায় স্প্রে করা।